মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ উপায়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে দুই দালালসহ মোট আটজনকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৯)।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসআরবি-৯ এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, গত সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এসআরবি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গোপন সংবাদের মাধ্যমে এসআরবি-৯ সিপিসি-২ (শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প) জানতে পারে যে, কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জরপুর এলাকার একটি বসতবাড়িতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অবস্থান করছেন। তারা বৈধ পাসপোর্ট এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। এই সংবাদের ওপর ভিত্তি করে গত ২ নভেম্বর বিকেলে এসআরবি-৯ এর একটি আভিযানিক দল ওই বাড়িতে অতর্কিত অভিযান চালায়। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে আটক ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাদের ধরে ফেলা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক আটজনের মধ্যে মো. হারিস আলী ও মো. আবুল আলী নামের দুই ব্যক্তি বাকি ছয়জনকে কুলাউড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর কাজে সহযোগিতা করছিলেন। তল্লাশির পর তাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা কিংবা ভারতে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি এবং তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
আটক হওয়া দুই দালালের পরিচয় হিসেবে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার সঞ্জরপুর গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে মো. হারিস আলী (৩৫) এবং মৃত সৈয়দ মুজীবির আলীর ছেলে মো. আবুল আলী (৪৫)।
তাদের সাথে আটক অন্য ছয়জন হলেন— গোপালগঞ্জের হানিফ শরীফের ছেলে আমিনুল শরীফ (৪২), মৃত দেবীর উদ্দিন শিকদারের ছেলে মো. মফিজুর শিকদার (৪৩), মেমোরিজ মোল্যার ছেলে কামরুল মোল্যা (৪৬), মৃত আব্দুল হাসেম মোল্যার ছেলে ইয়ামিন মোল্যা (৪৫), মৃত সুশান্ত বিশ্বাসের ছেলে সুখলাল বিশ্বাস (৪১) এবং মৃত মো. এলেম সরদারের ছেলে মো. জিহাদ সরদার (৪০)।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করে তাদের কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসআরবি ৯-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।