ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে পদযাত্রার আগেই আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দিপকে। শনিবার সকালে তাঁর সঙ্গে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়। নিজেদের আটকের বিষয়টি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আটকের পরপরই প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় দিপকে ঘোষণা করেন যে, তাঁর অনুপস্থিতিতে অজিঙ্ক শিন্ডে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পরবর্তী প্রতিবাদ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।

শনিবার সকালে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক (আইজিআই) বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই ভেতর থেকে পুলিশ দিপকে, সৌরভ ও রাঙ্কাকে আটক করে। দিল্লি পুলিশের একটি দল তাঁদের বিমানবন্দর থেকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনজনকে আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছে।

আটকের পর ২০ সেকেন্ডের একটি মোবাইল ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দিপকে জানান, “সৌরভ দাস, রাঙ্কা ও তাঁকে আটক করা হয়েছে। এখন থেকে অজিঙ্ক আন্দোলন পরিচালনা করবেন।”

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভিডিও বার্তায় দিপকে নিজেদের আটকের কথা বললেও ধারণা করা হচ্ছে, ভিডিওটি সম্ভবত আগেই রেকর্ড করা ছিল। এই বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আন্দোলনের নতুন নেতৃত্ব অজিঙ্ক শিন্ডে মহারাষ্ট্র রাজ্যের আলীবাগের বাসিন্দা এবং আম আদমি পার্টির (আপ) সাবেক কর্মী। ২০১৬ সালে গোয়া নির্বাচনে তিনি দলের হয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মহারাষ্ট্রে দলের হয়ে কাজ করেন। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় আপ-এ যোগ দেওয়ার আগে শিন্ডে আইটি খাতের একটি উচ্চবেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন। কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক শিন্ডে পুনের একটি আইটি কোম্পানিতে বেশ কয়েক বছর কর্মরত ছিলেন।

সিজেপি গঠনের শুরু থেকেই এই দলটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন শিন্ডে। গত জুন ও জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেন। এরপরই তিনি দলের মূল কমিটির সদস্য হন। বর্তমানে তিনি জাতীয় সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে সিজেপি। খবর অনুযায়ী, সকাল থেকে মধ্য দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করার সময় ২ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মধ্য দিল্লিতে ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।