ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্ক শিন্ডেকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া সৌরভ দাস সিজেপির প্রধান মুখপাত্র, আশুতোষ রাঙ্কা দলের জাতীয় মুখপাত্র এবং অজিঙ্ক শিন্ডে বর্তমানে দলের চলমান আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় তালাবদ্ধ ফটক টপকে অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করার পর তাঁদের আটক করা হয়। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে অজিঙ্ক শিন্ডেসহ সিজেপির এই নেতাদের ‘প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারের’ আওতায় নেওয়া হয়েছে।
দলের আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং আজ বুধবার সকালে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রত্না সিং জানান, আজ বুধবার সকালেই সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও অজিঙ্ক শিন্ডেকে মন্দির মার্গ থানায় বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) সামনে হাজির করা হতে পারে।
অন্যদিকে, সংবাদ সংস্থা পিটিআই সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া যন্তর মন্তর এলাকায় প্রবেশের অভিযোগে গতকাল সন্ধ্যায়ই দিল্লি পুলিশ সৌরভ, আশুতোষ ও অজিঙ্কের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রত্না সিং লিখেছেন, সৌরভ, আশুতোষ ও অজিঙ্ককে অনধিকার প্রবেশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘অনধিকার প্রবেশ, বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে।
রত্না সিং আরও উল্লেখ করেন যে, আদালতে হাজির করার পর এই তিন নেতাকে দিল্লির তিহার কারাগারে পাঠানো হতে পারে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত তাঁদের কারও সঙ্গে আইনজীবীদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
মধ্যরাতে পুলিশ সিজেপির তিন নেতাকে দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে রত্না সিং জানান, এত সব বেআইনি কার্যকলাপের পরও তিনজনের মনোবল অটুট।
গতকাল যন্তর মন্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি ভিডিও আশুতোষ রাঙ্কা তাঁর এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি, সৌরভ এবং অজিঙ্ক যন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করছেন এবং সেখানে জাতীয় পতাকা মেলে ধরছেন। এরপরই সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের বাধা দেন এবং আটক করেন।
এই প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌরভ ও আশুতোষের সঙ্গে আরও অন্তত ১০ জন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন জাতীয় পতাকা নিয়ে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়তে সক্ষম হন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ তাঁদের সবাইকে আটক করেছে।
উল্লেখ্য, দিল্লির যন্তর মন্তরে আর কাউকে বিক্ষোভ সমাবেশ বা ধরনায় বসতে দেওয়া হবে না বলে গত রোববার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। যন্তর মন্তরের বিকল্প হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশের জন্য তিনটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেগুলি হলো পুরান দিল্লির রামলীলা ময়দান, উত্তর দিল্লির বুরারির মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট বা ‘সিবিডি’ ময়দান।