চকচকে, নিখুঁত, দাগহীন ত্বকের জন্য সিরাম, ক্রিমের পেছনেই কতই-না টাকা খরচ করা হয়। একটু চিন্তা করে দেখলে সৌন্দর্যের প্রথম ধাপটা আসে শরীরের ভেতর থেকে। এরপর না বাইরে থেকে ক্রিমের ব্যবহার কাজে দেবে। আরেকটু চিন্তা করে দেখলে ভালো ত্বকের আসল রহস্যটা ওই ভাইরাল কনটেইনারে নয়, আপনার রান্নাঘরের তাকেই খুঁজে পাওয়া যাবে।

বোতলজাত পণ্যগুলো যেখানে ভাইরাল হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই পাশাপাশি নীরবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে পুরোনো এক অভ্যাস—চা খাওয়া। তবে যেকোনো চা নয়, এটি পরিচিত ‘গ্লো টি’ নামে। দেখতে সুন্দর, খেতেও আরামদায়ক আর ভেতর থেকে ত্বকের যত্ন নেওয়ার কাজটিও করে ভালোভাবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাচা নামের চা এখন ভাইরাল। কারণও আছে। মাচা ইজিসিজি নামের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি ত্বকের নিষ্প্রাণ ভাব, ব্রণ ও বয়সের আগাম ছাপের বিরুদ্ধে কাজ করে।কেন কাজ করেমাচায় থাকা ক্যাটেচিন দূষণ ও অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। এই চায়ের ক্লোরোফিল ত্বককে ডিটক্স করে এবং দাগ হালকা করতে ভূমিকা রাখে। প্রাকৃতিক ক্যাফেইন রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, ফলে ত্বকে আসে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। তেলতেলে ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্যও এটি দারুণ কার্যকর।কীভাবে খাবেনআধা চা-চামচ মাচা গরম কিন্তু ফুটন্ত নয়, এমন পানিতে ফুটিয়ে নিন। চাইলে ওট মিল্ক যোগ করতে পারেন। সকালে খেলে সারা দিন গ্লো থাকবে।

জবা ফুলের চা ত্বকে গ্লো বা উজ্জ্বলতা আনার জন্য বেশ নামকরা।কেন কাজ করেজবায় আছে অ্যান্থোসায়ানিন ও ভিটামিন সি, যা কোলাজেন সাপোর্ট করে এবং ত্বকে টান টান ভাব আনে। প্রাকৃতিক এএইচএ ভেতর থেকে হালকা এক্সফোলিয়েশন করে, পিগমেন্টেশন ও নিস্তেজ ভাব কমায়। মিউসিলেজ উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।কীভাবে খাবেন১-২ টেবিল চামচ শুকনা জবা ফুল ফুটন্ত পানিতে ৫-১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ছেঁকে গরম বা ঠান্ডা—দুইভাবেই খেতে পারেন। মধু বা লেবু যোগ করা যায়। যত বেশি সময় ভিজবে, রং ও উপকারিতা তত বাড়বে।

এটাও ভাইরাল। এই চা শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, নীল অপরাজিতা ফুল দিয়ে তৈরি নীল চা অ্যান্থোসায়ানিনে ভরপুর।

কেন কাজ করেজবা ফুলের ফ্ল্যাভোনয়েড কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, ত্বকের বলিরেখা কমায়। শুষ্ক ও ক্লান্ত ত্বকে আর্দ্রতা যোগ করে। ত্বকের কালো দাগ হালকা করতেও সহায়ক। বাড়তি বোনাস—মাথার ত্বকে রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও কাজ করে।কীভাবে খাবেনএক চা-চামচ শুকনা পাপড়ি ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। লেবুর রস দিলে রং বদলে বেগুনি হবে (পিএইচ পরিবর্তনের কারণে)। চাইলে মধু যোগ করতে পারেন।

শুধু ঘুমের জন্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকে প্রচলিত এই চা ত্বকের জন্যও বেশ উপকারী।কেন কাজ করেক্যামোমাইলের উপাদান প্রদাহরোধী লালচে ভাব কমায়, একজিমার মতো সমস্যায় আরাম দেয়। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকায় এটি ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। আর ভালো ঘুম মানেই কম ফোলা চোখ, চারপাশে কম কালো দাগ আর সুস্থ ত্বক।কীভাবে খাবেন১-২ চা-চামচ শুকনা ক্যামোমাইল ফুল গরম পানিতে ৫-১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ঘুমানোর আগে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাবেন।

ত্বকের যত্নে গোলাপজল কাজে দেয়। খেলে এর প্রভাব আরও গভীর।কেন কাজ করেগোলাপ চায়ে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন বাড়াতে সহায়তা করে, ভিটামিন ই ত্বক নরম ও মসৃণ রাখে। এটি জ্বালা কমায়, পোরস টাইট করে ও ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য আদর্শ।কীভাবে খাবেন১ টেবিল চামচ শুকনা গোলাপের পাপড়ি বা কুঁড়ি গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ছেঁকে মধু যোগ করতে পারেন। সকাল বা রাত—যেকোনো সময়ই এটি ভালো।

আয়ুর্বেদের এই জনপ্রিয় জুটি ত্বকের যত্নে ভেতর থেকে কাজ করে।কেন কাজ করেতুলসী ত্বককে পরিবেশগত চাপ থেকে রক্ষা করে আর আদা রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা আনে। এই দুটি মিলে শরীর ডিটক্স করে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে শীতে যখন ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে।কীভাবে খাবেনকয়েকটি তাজা তুলসীপাতা ও কুচি করা আদা ৫-৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। ছেঁকে মধু যোগ করে গরম–গরম খান।

সূত্র: গ্রাজিয়া