সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শনির হাওরপাড়ের চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে পুনরায় সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেন এবং এক পর্যায়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি উত্তেজিত জনতাকে নিয়ে আলাদা সভা আয়োজন করেন এবং তাঁদের বুঝিয়ে শান্ত করেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল বুধবার। একটি ইজিবাইকের কাচে ক্রিকেট বল পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলার চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। এর ফলে উপজেলার মধ্যতাহিরপুর এলাকায় সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে দুপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলে। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। জানা গেছে, সংঘর্ষের আগের রাতেই গ্রামের মসজিদের মাইকে মারামারির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ রাতভর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয় এবং গতকাল সকালে লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও মধ্যনগর) সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এর আগে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। গতকাল বুধবার তিনি দেশে ফিরে আসেন। আজ সকালে যখন উত্তেজিত লোকজন পুনরায় লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হন, তখন সংসদ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি নিজেও একটি লাঠি হাতে নিয়ে তরুণ ও যুবকদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেন। এরপর তিনি পৃথকভাবে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি দ্রুত মীমাংসা করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। তাঁর আশ্বাসে উভয় পক্ষই সেখান থেকে সরে যেতে রাজি হয়।

এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা আশ্বস্ত করেছিল মারামারি হবে না। কিন্তু পরে সেটি থামানো যায়নি। এতে এলাকার সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আজ আবার লোকজন মারমারির প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই এখন শান্ত আছে। আশা করি এ রকম ঘটনা আর ঘটবে না।’