সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের মাটিয়ান গ্রামে সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম এবং সাবেক ইউপি সদস্য কাঁচা মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে নারীসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে মাটিয়ান গ্রামের কাঁচা মিয়া মেম্বারের পক্ষের মনসুর মিয়ার ছেলে ইমন আহমেদের (২৩) সঙ্গে নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তীতে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ওই সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল।

তবে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ওই পুরনো ঘটনা নিয়ে ইমন আহমেদ ফেসবুকে একটি উত্তেজনাপূর্ণ পোস্ট প্রদান করেন। এর ফলে ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের ঝড় ওঠে এবং দুপক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপক্ষকে নিয়ে সালিশের আয়োজন করা হয় এবং বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সালিশের পরও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে দুপক্ষ সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে নুরুল ইসলাম পক্ষের রিফাত মিয়া (২০) এবং কাঁচা মিয়া মেম্বার পক্ষের শাহীনুর মিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম আখুঞ্জি বলেন, “মঙ্গলবার দুপক্ষের বিরোধ সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়েছিল। কিন্তু সালিশের পরও তারা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আবার বিরোধে জড়ান। রাতে ও বুধবার সকালে তিনি দুপক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা কথা শোনেননি। পরে দুপুরের দিকে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকায় পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত ছিলেন। মাটিয়ান গ্রামে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”