সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আটক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ওই যুবকের বয়স ৪০ বছর। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করা হয় এবং রাতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আজ মঙ্গলবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্ম অবমাননামূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গতকাল দুপুরে ওই যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন, যে নাম ও আইডি থেকে বিতর্কিত পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি ভুয়া। এই বিষয়ে তিনি আগেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া আইডি খোলা হয়েছে এবং সেখান থেকে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছে, তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই যুবক তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময় পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফারুক আহমদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ওই যুবক সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে চাকরি করতেন। দীর্ঘদিন অনুমতি না নিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার একটি ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননামূলক একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এই পোস্টটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে গতকাল দুপুরে ওই ব্যক্তির গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত গ্রামে গিয়ে তাঁকে আটক করে। পুলিশ যখন তাঁকে নৌকায় করে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন পেছন থেকে কিছু কিশোর ও তরুণ ঢিল ছুড়ে মারেন এবং তাঁকে পুলিশ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জুনাব আলী, মেহেদী হাসানসহ আরও অনেকে ওই গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁরা স্থানীয়দের শান্ত থাকার এবং ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান।