শারদীয় দুর্গাপূজার আগমনে হবিগঞ্জে এখন চরম ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপেই এখন কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে। কোথাও প্রতিমার গায়ে দেওয়া হচ্ছে রঙের শেষ আঁচড়, আবার কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আয়োজকেরা। কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন প্রতিমা কারিগররা।

প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি মণ্ডপের সাজসজ্জা এবং আলোকসজ্জার কাজও পুরোদমে চলছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে যাবে। খুব অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মণ্ডপগুলোর বর্তমান রূপ বদলে গিয়ে চারপাশ আলোকসজ্জায় ঝলমল করে উঠবে।

হবিগঞ্জ শহরের বাসিন্দা পূরবী দাস বলেন, ‘এবারের পূজা আমরা আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করতে পারব বলে আশা করছি। ইতিমধ্যেই উৎসবকে ঘিরে কেনাকাটা শুরু হয়ে গেছে। তবে পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে।’

অন্যদিকে, প্রতিমা কারিগর শম্ভু রায় জানান, ‘আমরা এখন প্রতিমার শেষ মুহূর্তের কারুকার্যের কাজ করছি। আশা করছি, দুই-তিন দিনের মধ্যেই সব প্রস্তুতির কাজ শেষ করতে পারব।’

হবিগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নলিনী কান্ত রায় জানিয়েছেন, জেলার ৯টি উপজেলায় এবার মোট ৬৬৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবী দুর্গার আরাধনা। এরপর বোধন, অঞ্জলি, সন্ধিপূজাসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে শারদীয় আয়োজন। আগামী ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উৎসবকে কেন্দ্র করে পূজা উদযাপন পরিষদ এবং বিভিন্ন মণ্ডপ কমিটিগুলো তাদের নিজস্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ জানান, পূজাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানোর পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকেও সতর্ক থাকার এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।