ক্রিকেট বিশ্বে চার বছরের ব্যবধান খুব সামান্য নয়। বিশেষ করে ত্রিশের কোঠা পেরিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য এই সময়টি আরও দীর্ঘ মনে হয়। আর যদি তিনি হয়ে থাকেন একজন পেসার, তবে চ্যালেঞ্জটা আরও বেড়ে যায়। তবে ভারতীয় পেসার ভুবনেশ্বর কুমার যেন এই প্রচলিত ধারণাগুলোকে ভুল প্রমাণ করলেন।
৩৬ বছর বয়সে প্রায় চার বছর পর আবারও জাতীয় দলের ডাক পেয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। গতকাল ঘোষিত নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হঠাৎ কেন ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট ভুবনেশ্বরকে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিল, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
ভারতের হয়ে ভুবনেশ্বর সর্বশেষ খেলেছিলেন ২০২২ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তবে ক্রিকেটের বাকি দুই ফরম্যাটে তাঁর জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইতিহাস আরও পুরনো। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তিনি শেষবার টেস্ট ম্যাচে অংশ নেন এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শেষবার ওয়ানডে ম্যাচে ভারতের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন।
জাতীয় দলের বাইরে এই দীর্ঘ সময়ে ভুবনেশ্বর ভারতের ঘরোয়া টুর্নামেন্ট সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি এবং আইপিএলে নিয়মিত খেলেছেন। বিশেষ করে আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে টানা দুটি শিরোপা জেতাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তা সত্ত্বেও, জাতীয় দলে তাঁর ফেরার সম্ভাবনা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষীণ মনে করা হচ্ছিল।
কেন এই প্রত্যাবর্তন?
ভুবনেশ্বরের এই প্রত্যাবর্তনের মূল কারণ হলো তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই অভিজ্ঞ পেসারের বোলিংয়ে যেন আরও ধার এসেছে। আইপিএলে তিনি নিয়মিতভাবে ভালো ফল করে গেছেন। ২০২৩ সাল থেকে এই টুর্নামেন্টে তিনি মোট ৭২টি উইকেট নিয়েছেন, যা এই সময়ের যেকোনো বোলারের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাঁর বোলিং গড় ২৬.৯৭ এবং ইকোনমি ৮.৭। বল হাতে তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। নতুন বলে সুইং করানোর ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং দুই দিকেই বল মুভ করানোর বিশেষ দক্ষতা ভুবনেশ্বরকে এখনো অনন্য করে রেখেছে। এই সব কারণেই তাঁর প্রত্যাবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ভারতের?
ভারতীয় ম্যানেজমেন্ট সাধারণত বড় টুর্নামেন্ট বা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করে থাকে। ভুবনেশ্বর কি তেমন কোনো পরিকল্পনার অংশ? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিউজিল্যান্ড সফরই নয়, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনার আলোচনায় তাঁর নাম রয়েছে।
তবে ৩৬ বছর বয়সে এসে ওয়ানডে ক্রিকেটের শারীরিক চাপ তিনি নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তিনি সর্বশেষ খেলেছিলেন ২০২৩ সালের বিজয় হাজারে ট্রফিতে। তাই আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে তাঁর ফিটনেস এবং দীর্ঘ ফরম্যাটের চাপ নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট। নিউজিল্যান্ড সফরটি হতে পারে তাঁর জন্য সেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
ভুবনেশ্বর নিজেও আরও একটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। সম্প্রতি যতিন সাপ্রুর ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এ বিষয়ে বলেন, “বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতির সঙ্গে অন্য কিছুকে মেলানো যায় না। আমার শরীর প্রস্তুত। বাড়িতে আমার ফিজিও ও ট্রেনার আছে। এই মুহূর্তে আমি প্রস্তুত। আমি অনুশীলন করছি। তবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নয়, নিজের ইচ্ছাতেই করছি। যদি দলে সুযোগ পাই, আমি খুশি হব। সুযোগ না পেলেও হতাশ হব না।”