ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সাথে সূচির সংঘাত এড়াতে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) এগিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। সম্প্রচারস্বত্বধারী প্রতিষ্ঠানের জোরালো আপত্তি থাকা সত্ত্বেও টুর্নামেন্টটি আগের সময়েই আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এর ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো আইপিএলের সমসাময়িক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ।

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পিসিবি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ থেকে শুরু হবে পিএসএলের দ্বাদশ আসর। এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২ মে। পূর্ববর্তী আসরের ধারাবাহিকতায় এবারও আটটি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

টুর্নামেন্টের সূচি চূড়ান্ত করার আগে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন আলোচনা চলছিল। পিএসএলের সম্প্রচারস্বত্বধারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালি টেকনোলজিস চেয়েছিল টুর্নামেন্টটি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে সরিয়ে নেওয়া হোক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, রমজান মাসের পর টুর্নামেন্ট আয়োজন করার কারণে বিজ্ঞাপন থেকে প্রত্যাশিত আয় করা সম্ভব হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিএসএলের সম্প্রচারস্বত্বের মালিক ওয়ালি টেকনোলজিস। একই সঙ্গে তারা রাওয়ালপিন্ডিজ ফ্র্যাঞ্চাইজিরও মালিক। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান রমজান মাসেই তাদের বিজ্ঞাপনের বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যয় করে ফেলে। ফলে রমজানের পর পিএসএল শুরু হলে সম্প্রচারকারীদের জন্য পর্যাপ্ত বিজ্ঞাপন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

গত দুটি আসরই রমজানের পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং আগামী বছরও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শুরুতে রমজান শুরু হয়ে মার্চের প্রথম সপ্তাহে শেষ হবে।

এই জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে পিএসএলের গভর্নিং কাউন্সিলের এক বৈঠকে টুর্নামেন্ট এগিয়ে আনার প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সেই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মতামত জানতে চায় পিসিবি। দেখা যায়, অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজি মার্চ থেকে মে মাসের সময়সূচির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে পিএসএল আয়োজনের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানের আবহাওয়া। ওই সময়ে দেশটির পাঞ্জাব অঞ্চলে তীব্র শীতের পাশাপাশি ঘন কুয়াশা থাকে। পিএসএলের নিয়মিত ভেন্যু লাহোর, মুলতান ও রাওয়ালপিন্ডি এই অঞ্চলেই অবস্থিত।

কুয়াশার কারণে ম্যাচ আয়োজনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা ছিল। পাশাপাশি টুর্নামেন্টের শেষ অংশ রমজানের মধ্যে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির প্রস্তাবটি আর সামনে এগোয়নি।

২০১৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে পিএসএল অনুষ্ঠিত হতো। তবে ২০২৫ সালে পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০২৬ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কারণে টুর্নামেন্টটি পিছিয়ে নিতে হয়। আর এখান থেকেই আইপিএলের সঙ্গে সূচির সংঘাত শুরু হয়।

দুটি বড় প্রতিযোগিতা একই সময়ে হওয়ায় বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব ক্রিকেটার উভয় লিগেই সুযোগ পান, তাদের জন্য দল নির্বাচন করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

গত আসরে প্রথমবারের মতো আটটি দল নিয়ে পিএসএল আয়োজন করা হয়েছিল এবং এবারও সেই একই কাঠামো বজায় থাকছে। তবে ম্যাচের পূর্ণাঙ্গ সূচি, ভেন্যু এবং খেলোয়াড় নিলামের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি পিসিবি। এসব বিষয় পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে তারা জানিয়েছে।