ভয়, ঝুঁকি আর দুঃসাহসের সব পরীক্ষা শেষ করে অবশেষে বিজয়ী ট্রফি জিতলেন টেলিভিশন অভিনেতা অবিনাশ মিশ্র। জনপ্রিয় স্টান্টভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। গতকাল রাতে প্রচারিত গ্র্যান্ড ফিনালেতে রিতভিক ধনজানি এবং ওরহান আওয়াত্রামানি ওরফে অরির সঙ্গে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের পর এই গৌরব অর্জন করেন অবিনাশ।

রোহিত শেঠির সঞ্চালনায় পরিচালিত এই রিয়েলিটি শোর চূড়ান্ত পর্যায়ের টাস্কে সবচেয়ে কম সময়ে চ্যালেঞ্জ সম্পন্ন করতে সক্ষম হন অবিনাশ। আর এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলেই তাঁর হাতে ওঠে চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন ২০ লাখ রুপি (যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ লাখ টাকা), একটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং ইউরোপ ভ্রমণের বিশেষ সুযোগ।

দীর্ঘ ১০ বছরের ক্যারিয়ারে এই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অবিনাশ। বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর তিনি নিজেকে সামলাতে না পেরে সঞ্চালক রোহিত শেঠিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। অভিনেতা জানান, গত এক দশকে তিনি অনেক কাজ করেছেন, তবে কোনো প্রতিযোগিতায় আগে কখনো জয়ী হতে পারেননি। তাঁর জীবনে এটিই প্রথম রিয়েলিটি শো, যেখানে তিনি চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছেন।

অবিনাশের এই অসাধারণ লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন রোহিত শেঠিও। তাঁর মতে, প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই অবিনাশের মধ্যে ফাইনালে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতা ছিল। বিজয়ের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে অবিনাশ বলেন, “টেলিভিশনে প্রায় এক দশক কাজ করতে গিয়ে তাঁর পরিচয়ের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছিল পর্দার ‘সুদর্শন ছেলে’ ভাবমূর্তি। সেই পরিচয় তিনি উপভোগ করলেও নিজের আরও অনেক দিক দর্শকদের সামনে তুলে ধরার ইচ্ছা ছিল।”

অবিনাশ মনে করেন, ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি’ তাঁকে সেই কাঙ্ক্ষিত সুযোগটি করে দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “এই অনুষ্ঠানে এসে নিজের কাজ দিয়েই নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়েছেন।”

নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবিনাশ আরও বলেন, “নিজেকে পরীক্ষা করতেই তিনি এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। কিন্তু এখান থেকে ফিরছেন নিজের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাস নিয়ে। তাঁর কাছে সেটিই সবচেয়ে বড় জয়।”

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবিনাশের পর দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন রিতভিক ধনজানি। আর তৃতীয় স্থান পান ওরহান আওয়াত্রামানি, যিনি অরি নামেই বেশি পরিচিত। ফাইনালের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিন প্রতিযোগীর মধ্যেই তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সময়ের ব্যবধানেই অবিনাশকে বিজয়ী ঘোষণা করেন রোহিত শেঠি।

গ্র্যান্ড ফিনালেতে অবিনাশকে সমর্থন জানাতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ‘বিগ বস ১৮’-এর প্রতিযোগী ঈশা সিং। বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি অবিনাশকে জড়িয়ে ধরেন।

ডিজে থেকে অভিনেতা হয়ে ওঠা অবিনাশ মিশ্র প্রায় এক দশক ধরে টেলিভিশনের পর্দায় কাজ করছেন। অভিনয়ে আসার আগে তিনি পেশাদার ডিজে হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালে ‘শেঠজি’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয়ে তাঁর অভিষেক ঘটে। এর পরের বছর তিনি ‘ইশকবাজ’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন।

২০১৮ সালে ‘মরিয়ম খান-রিপোর্টিং লাইভ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের নজরে আসেন অবিনাশ। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০২২ সালে ‘নাথ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের পর। এই ধারাবাহিকের ব্যাপক সাফল্যের পর তাঁর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এরপর তিনি সুযোগ পান সালমান খান সঞ্চালিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১৮’-এ অংশ নেওয়ার, যেখানে তিনি ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।

এবার ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’-এর ট্রফি জিতে রিয়েলিটি শোতে নিজের সাফল্যের তালিকায় নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করলেন তিনি। টেলিভিশনের পর্দায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হয়েও অবিনাশের সবসময় এই দাবি ছিল যে, দর্শক যেন তাঁকে শুধু বাহ্যিক চেহারা বা পর্দার উপস্থিতির জন্য না চেনেন, বরং তাঁর কাজ ও দক্ষতার জন্যও মনে রাখেন। ‘খতরোঁ কে খিলাড়ি ১৫’-এর এই বিজয় তাঁর সেই প্রচেষ্টায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল।