চলতি অক্টোবর মাসেই এনটিআরসিএ-র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। দীর্ঘ তিন বছর ধরে দেশের বৃহত্তম নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত এনটিআরসিএ-র শিক্ষক নিবন্ধনের কোনো সার্কুলার না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘তিন বছর ধরে দেশের সবচেয়ে বড় নিয়োগ পরীক্ষা এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধনের কোনো সার্কুলার নেই। কোনো টালবাহানা নয়, অক্টোবরেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চাই।’
সাদিক কায়েম তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এনটিআরসিএ ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করেছিল। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও নিবন্ধনের কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে বারবার এই বিজ্ঞপ্তি আটকে রাখা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এই বিষয়ে পরস্পরবিরোধী কথা বলা হচ্ছে এবং সিদ্ধান্তগুলো বারবার পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
বেকারত্বের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আইএমএফর ‘ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৩৬ জনই বেকার। এত বিপুল সংখ্যক পদ খালি থাকা সত্ত্বেও নানারকম টালবাহানায় নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আটকে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দলকানা সরকার এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট করে সময়ক্ষেপণ করছে। তবে প্রার্থীদের বয়স তো থেমে নেই। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও খামখেয়ালি আচরণের খেসারত কেন তরুণ প্রজন্মকে দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে পুলিশের অশালীন আচরণের শিকার হয়েছেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম। তার অভিযোগ, পুলিশ তাকে মোবাইল ফোন তল্লাশি এবং গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে এক চোখ হারানো এই ছাত্রনেতার ওপর পুলিশের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।
ঘটনাটি ঘটে রোববার রপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অনশনরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে। খান জসিমের অভিযোগ, মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান তার পরিচয় জানার পরও চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীদের ‘উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে জেরা করা হয় এবং জোরপূর্বক তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়। জসিম যখন জুলাইয়ে চোখ হারানোর কথা জানান, তখন ওসি তাকে ‘কালো শক্তি’ বলে আখ্যা দেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ না করলে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন বলে দাবি করেন।
এই ঘটনার বিষয়ে জানতে মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা অল্প কিছু লোক সেখানে জড় হয়েছিলেন।’ তবে তার নাম ও পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কথা না বলেই ফোনটি কেটে দেন।
এই ঘটনার পর এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যৌক্তিক দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধির সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক আচরণে আমি স্তম্ভিত। পুলিশের এ ভাষা, ঔদ্ধত্য ও দমনমূলক আচরণ হাসিনাশাসনের আমলের প্রতিচ্ছবি।’
সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের একটি অংশ রাজনৈতিক ক্যাডারের মতো ভূমিকা পালন করছেন এবং বিএনপি সরকার হাসিনাকে অনুসরণ করে দমনমূলক পুলিশি রাষ্ট্রের পথ বেছে নিচ্ছে। জুলাইয়ে জীবনবাজি রাখা ছাত্র-জনতা কোনো অবস্থাতেই এ জাতীয় আচরণ মেনে নেবে না।’
পরিশেষে, ডাকসু ভিপি নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং মিরপুর থানার ওসির অসদাচরণের সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।