ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ডাকসু ভবনে বসার মতো ন্যূনতম পরিবেশ ছিল না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “ভিপির চেয়ার বা কাজের টেবিলটা পেতেই আমার সময় লেগেছিল তিন থেকে সাড়ে তিন মাস।”
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ডাকসু ভবনের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা হস্তান্তরের সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা জানান।
শিক্ষার্থীদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভিপি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতিটি ভোট আমাদের কাছে আমানত। আমরা কথা দিয়েছিলাম আপন ভাই-বোনের মতো শিক্ষার্থীদের পারিবারিক, একাডেমিক বা যে কোনো ব্যক্তিগত সমস্যায় মন-প্রাণ উজাড় করে পাশে থাকব।” তিনি আরও জানান, আলহামদুলিল্লাহ, দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা ডাকসু ভবনকে একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে রূপান্তর করেছেন। অতীতে ডাকসুতে এক গ্রুপের সঙ্গে অন্য গ্রুপের চেয়ার নিয়ে মারামারি কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখার যে সংস্কৃতি ছিল, তা তারা সম্পূর্ণ বন্ধ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বিগত এক বছরে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম জানান, ডাকসুর পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ এর বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান ডিভাইস ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে ডাকসু টিম অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধারের উদ্যোগের পেছনে নিজের শৈশবের একটি স্মৃতি তুলে ধরে ভিপি বলেন, “অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার টিউশনির টাকা জমিয়ে কেনা সাইকেলটি যখন চুরি হয়ে যায়, তখন আমি সবচেয়ে বেশি কেঁদেছিলাম। একজন শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে বা টিউশনির টাকায় যখন একটি ফোন কেনে, আর সেটি হারিয়ে যায় তখন তার কষ্টটা কেমন হয় তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি।” এই উপলব্ধির কারণেই তারা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের হারিয়ে যাওয়া ফোন উদ্ধারে কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, সমালোচকদের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলতে পারেন শিক্ষার্থীদের ফোন উদ্ধার করা ডাকসুর কাজ কি না! জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বিগত দুই বছরে একশ্রেণির রাজনৈতিক বন্ধুর মূল কাজই ছিল আমাদের অন্ধ বিরোধিতা করা। তবে তিনি আহ্বান জানান, তাদের যদি কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা না থাকে, তবে তারা দেশ বিনির্মাণের জন্য গঠনমূলক এজেন্ডা তৈরি করে দিতে রাজি আছেন।
ছাত্র সংসদের জবাবদিহিতা এবং ভবিষ্যৎ ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে ভিপি বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব কল্যাণমূলক কাজ করেছি এবং এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর 'খতিয়ান' ম্যাগাজিনের মাধ্যমে কাজের হিসাব দিয়েছি।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা ক্ষমতার চেয়ারে স্থায়ী হতে আসেননি। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদকেন্দ্রিক সুস্থ ধারার রাজনীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে তারা প্রতিটি কার্যনির্বাহী মিটিংয়ে ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারভুক্ত করা এবং দ্রুত রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন।