প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে গিয়ে পুলিশের অশালীন আচরণ, মোবাইল ফোন তল্লাশি এবং গ্রেপ্তারের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় এক চোখ হারানো এই ছাত্রনেতার প্রতি পুলিশের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অনশনরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।

খান জসিমের অভিযোগ অনুযায়ী, মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান তার পরিচয় জানার পরেও চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন। আন্দোলনকারীদের ‘উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে বিভিন্নভাবে জেরা করা হয় এবং জোরপূর্বক তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়। জসিম যখন জুলাইয়ে চোখ হারানোর কথা জানান, তখন ওসি তাকে ‘কালো শক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ না করলে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন বলে দাবি করেন তিনি।

এই ঘটনার বিষয়ে জানতে মিরপুর মডেল থানার ওসি হাফিজুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা অল্প কিছু লোক সেখানে জড় হয়েছিলেন।’

ডিউটি অফিসারের কাছে তার নাম ও পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি তা না জানিয়েই ফোনটি কেটে দেন।

এদিকে এই ঘটনার পর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যৌক্তিক দাবি আদায়ের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধির সঙ্গে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক আচরণে আমি স্তম্ভিত। পুলিশের এ ভাষা, ঔদ্ধত্য ও দমনমূলক আচরণ হাসিনাশাসনের আমলের প্রতিচ্ছবি।’

সাদিক কায়েম আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের একটি অংশ রাজনৈতিক ক্যাডারের মতো ভূমিকা পালন করছেন এবং বিএনপি সরকার হাসিনাকে অনুসরণ করে দমনমূলক পুলিশি রাষ্ট্রের পথ বেছে নিচ্ছে। জুলাইয়ে জীবনবাজি রাখা ছাত্র-জনতা কোনো অবস্থাতেই এ জাতীয় আচরণ মেনে নেবে না।’

ডাকসু ভিপি অনতিবিলম্বে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে মিরপুর থানার ওসির অসদাচরণের সুষ্ঠু তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।