যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের গুরুতর অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি বলেন, “ভেরিফিকেশন বিতর্কের পর এবার প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে বর্তমান বিএনপি সরকার তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সুস্পষ্ট বেইমানি করছে এবং দেশটি যেন আবারও ‘আওয়ামী যুগে’ ফিরে যাচ্ছে।”
পরীক্ষা স্থগিতের পর বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছেন, তার প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন ডাকসু ভিপি।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২৭ লাখ বেকারের এই দেশে জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই মেধার ভিত্তিতে চাকরির সুযোগ পাওয়ার দাবিতে। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বর্তমান সরকার তরুণ প্রজন্মের সেই প্রত্যাশাকে চুরমার করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ এবং ৪৯তম বিসিএসে ভেরিফিকেশনের নামে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই শত শত শিক্ষার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। আর এবার প্রশ্নফাঁসের সেই পুরোনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে এনে বেকারদের চরম অপমান করা হলো।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সরকারি কোনো না কোনো পর্যায়ের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া এভাবে প্রশ্নফাঁস সম্ভব নয়। তাই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও এর দায় এড়াতে পারেন না।’
প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট নির্মূল করতে না পারাটা সরকারের একটি সুস্পষ্ট ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন তিনি।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ডাকসু ভিপি কিছু দাবি ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবিগুলো হলো:
১. প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. প্রশ্নফাঁসের সব অপশক্তি ও সিন্ডিকেটকে চিরতরে নির্মূল করতে হবে।
৩. সরকারি চাকরির প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষে ডাকসু ভিপি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বেকার যুবকদের সাথে এ ধরনের প্রতারণা ও গাদ্দারি বজায় থাকলে ইতিহাসে এ সরকারকে ঘৃণার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।’