যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনের দাবি, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের এই ঘটনাটি চাকরিপ্রত্যাশীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর হতাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর প্রস্তুতি, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে যারা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, তাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা এই ঘটনার ফলে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা শুধু পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা নয়, বরং মেধা, যোগ্যতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থার প্রতিও গুরুতর আঘাত। একটি রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থা যদি অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে তরুণ সমাজের মধ্যে হতাশা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।”
বিবৃতিতে তারা আরও উল্লেখ করেন যে, প্রশ্নফাঁসের এই অভিযোগের বিষয়ে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য তদন্ত পরিচালনা করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে মুদ্রণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণ প্রক্রিয়ার সাথে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের ভূমিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে দুর্নীতির দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে, সেজন্য নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার আনার আহ্বান জানান তারা।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন মনে করে, চাকরি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর অনুগ্রহ নয়, বরং এটি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অর্জনের একটি অধিকার। তারা স্পষ্টভাবে জানান, “তরুণদের শ্রম, মেধা ও স্বপ্ন নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। আমরা চাই, প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষা হোক স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক। যোগ্য প্রার্থীরা যেন কোনো অনিয়মের শিকার না হয়ে নিজেদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন পান।”
পরিশেষে, মেধার সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তোলার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।