চুয়াডাঙ্গায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় দায়ের করা একটি মামলায় জালাল মালিথা (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের sentence দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, এই জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পারিবারিক আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত জালাল মালিথা চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ার বাসিন্দা এবং মৃত আলতাফ হোসেন মালিথার পুত্র।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাদক চোরাচালানের বিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড় এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। উক্ত অভিযানে কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গার দিকে আসা ‘সোনারতরী এক্সপ্রেস’ নামক একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় জালাল মালিথা নামের এক যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে তার ডান হাতের প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ওই দিন বাদী হয়ে আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তদন্ত কার্যক্রম শেষে ২০২১ সালের ১২ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন। মামলার শুনানির সময় মোট নয়জন সাক্ষীর মধ্যে চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর রোববার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে বিচারক চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের এই রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামিম রেজা ডালিম বলেন, “ওই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে এমন মামলার রায় দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান জানান, আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।