মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় মো. মুক্তার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর আসামি মো. সুমন মিয়াকে চার বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক ধারায় তাদের উভয়ের আরও কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত যখন রায় ঘোষণা করেন, তখন একজন আসামি উপস্থিত থাকলেও অপরজন অনুপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মুক্তার হোসেন সিংগাইর উপজেলার চর চান্দহর গ্রামের কুরবানীর ছেলে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ৮(গ) উপধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই আইনের ১০(ক) ধারায় তাকে আরও আড়াই বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপর দণ্ডপ্রাপ্ত সুমন মিয়া একই উপজেলার চর চামটা গ্রামের মৃত আব্দুর রফিকের ছেলে। তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার ৮(খ) উপধারায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া একই আইনের ১০(ক) ধারায় তাকে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, উভয় ধারায় দেওয়া কারাদণ্ড একসঙ্গে কার্যকর হবে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই রাতে সিংগাইর উপজেলার চর চান্দহর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের উত্তর পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালায়। এসময় মুক্তার হোসেনের কাছ থেকে ৮০ গ্রাম হেরোইন এবং সুমন মিয়ার কাছ থেকে ২০ গ্রাম হেরোইন ও ২২০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটির বাদী ছিলেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজ রানা। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক রনি দেবনাথ।
আদালতে মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করার পর বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নূরতাজ আলম বাহার এবং আসামিপক্ষের আইনি সহায়তা প্রদান করেন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম শহীদ।