চুয়াডাঙ্গায় হত্যা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তিন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের sentence দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্তদের ওপর মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ২টার সময় আসামিদের উপস্থিতিতে আদালতের এই রায় ঘোষণা করা হয়।
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন (৫২) এবং আবুল কালাম (৫৫)। অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন একই উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের মো. শফিউল্লাহ (৬০)।
পান ব্যবসায়ী হত্যা মামলার বিস্তারিত:
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলার শালিকা গ্রামের পান ব্যবসায়ী ঝন্টু মিয়াকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে নেন ওই গ্রামেরই ইসমাইল হোসেন। অভিযোগ করা হয় যে, ইসমাইল হোসেন এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ঝন্টু মিয়াকে গ্রামের মাঠের একটি ধানক্ষেতে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এই ঘটনার পরদিন নিহতের পিতা জাহা বক্স মণ্ডল বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইসমাইল হোসেনসহ আরও তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আলমডাঙ্গা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ ফকির দুজনকে আসামি করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই মামলার শুনানি চলে। মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর বুধবার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম ইসমাইল হোসেন ও আবুল কালামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
মাদক উদ্ধারের মামলায় সাজা:
অন্যদিকে, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর সকালে মাদক বিক্রির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই অভিযানের সময় গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউল্লাহর বাড়ি তল্লাশি করে ২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।
মাদক উদ্ধারের পর শফিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
মামলার মোট ছয়জন সাক্ষীর মধ্যে চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বুধবার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস শফিউল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আ স ম আব্দুর রউফ এবং পারিবারিক আপিল আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম পৃথক এই দুই মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।