জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জনসমক্ষে চরমভাবে অপমানিত করার জন্য বিভিন্ন হীন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি পোস্টে শফিকুর রহমান এই দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির তীব্র সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং কর্তব্যরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং গতকাল শনিবার আদালত তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’ শিরোনামে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জামায়াতের আমির। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ-ভোগান্তি, কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এবং বিভিন্ন অনিয়ম-অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, কার্যত আখতারুজ্জামান ভুক্তভোগী যাত্রীসাধারণ, বিশেষ করে বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের প্রতিবাদের কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন।

শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে আরও লিখেছেন, তাঁর (আখতারুজ্জামান) এই প্রতিবাদকে গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো সংশোধন করার পরিবর্তে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জনসমক্ষে অপমানিত করার নানা হীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আখতারুজ্জামানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শফিকুর রহমান আরও লিখেছেন, ‘জনগণ অন্ধ নয়, সবই দেখছে। কার্যত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তিনি বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভুক্তভোগী মানুষের হৃদয়ের বীরে পরিণত হয়েছেন।’

আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। একাদশ সংসদের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও নৌকার প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পরাজিত হন। তিনি একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।