রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির হামলায় আহত শাহরিয়ার জামান রানাকে দেখতে গিয়ে দ্রুত মামলা গ্রহণ ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালে রানাকে দেখতে যান তিনি। পরে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহরিয়ার জামান রানাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এলাকায় খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের জন্য একটি বড় মাঠ করে দিয়েছেন। সম্প্রতি মাদকসেবীরা সেখানে গিয়ে উৎপাত শুরু করে। রানা তাদের সতর্ক করেছিলেন। রানার অভিযোগ, মাদকসেবীরা রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় পায়।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘এ ঘটনায় আখতারুজ্জামান দুবার মামলা করতে গেলেও এখন পর্যন্ত তা নথিভুক্ত করা হয়নি।’
প্রশাসন কার পক্ষে, দুষ্টের পক্ষে, নাকি শিষ্টের পক্ষে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘হামলার পেছনে মাদকচক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকলে প্রশাসনের দায়িত্ব ব্যবস্থা নেওয়া। তাহলে কী কারণে মামলা নেওয়া হচ্ছে না, তা রহস্যজনক। পুলিশ কর্মকর্তারা আশ্বাস দিলেও মামলা নথিভুক্ত হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি হলো, অতি দ্রুত মামলা নিয়ে দুষ্কৃতকারীদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
হামলাকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডে নিয়ে কারা তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে, তা বের করারও দাবি জানান তিনি।
আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বিমানবন্দরে অনিয়ম ও যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় তাকে গত ৩ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত দেননি; নিজের ও সাধারণ যাত্রীদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন।’
রানার ওপর হামলার সঙ্গে তার বাবার গ্রেপ্তারের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তারা জানেন না বলে জানান জামায়াতের আমির। তবে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।