হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীর সাথে যুক্ত বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ডিউটি অফিসার জেসমিন আক্তার পপি এই মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সজীব দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় বিমানবন্দর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, "হয়রানির শিকার হয়ে প্রতিবাদ করলে উল্টো নিজেকেই মামলা খেতে হবে। এটাই কি বিএনপির গণতন্ত্র? হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর নামে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অথচ ব্যবস্থাপনার অবস্থা মাছের বাজারের মতো। এখানে হয়রানির অভিজ্ঞতা আজকে নতুন না। আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন।"
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি আরও লিখেছেন, "লাগেজ না পাওয়া, লাগেজ ভেঙে চুরি এগুলো একদম স্বাভাবিক এ বিমানবন্দরে। এটা আমরা সবাই জানি। অথচ এশিয়ায় আমাদের পাশের দেশগুলো তাদের বিমানবন্দরের ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সুন্দর করে ট্রানজিটের মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করছে।"
আখতারুজ্জামানের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম লিখেছেন, "মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিবাদ করেননি। তিনি বলেছেন, যে সরকার বিমানবন্দরে ঠিকঠাক ট্রলি ব্যবস্থাপনা করতে পারে না, সেই সরকার কেন বোয়িং কিনতে যায়? বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হওয়া অসংখ্য যাত্রীর কণ্ঠস্বর হয়ে তিনি এ প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু সরকার যাত্রীদের ভোগান্তি সুরাহা না করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিচয় দিল।"
পোস্টের শেষ অংশে তিনি অভিযোগ করেন, "বিএনপি সরকার যেন নাগরিকদের অধিকার বুঝিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।"