যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করছেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতি ১০ জনের মাত্র ২ জন। এপি-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই জরিপ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী শুল্কনীতি, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া অর্থনৈতিক স্বস্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে।
এপি-এনওআরসির জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যে দীর্ঘমেয়াদী মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের নীতিই প্রধানত দায়ী। এমনকি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকার প্রতি অনেক রিপাবলিকান সমর্থকও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যদিও তাঁরা সরাসরি তাঁর নীতিকে দায়ী করতে খুব একটা আগ্রহী নন।
জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতি ১০ জনে মাত্র ৩ জন। অন্যদিকে, প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা নভেম্বরের নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের বাড়তি দামকে তাদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই অসন্তোষ স্পষ্ট। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত রিপাবলিকান সমর্থক ফ্রেড নাউম্যান বলেন, "হোয়াইট হাউসের আশ্বাস সত্ত্বেও পণ্যের দাম ও দৈনন্দিন খরচ বেড়েই চলেছে। এতে প্রতি সপ্তাহেই তিনি আর্থিক চাপ অনুভব করছেন।"
কোনো নির্দিষ্ট দলের সমর্থক নন এমন ক্রিস্টেন স্লেভেন ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের কারণে মূল্যস্ফীতি কমেনি; বরং এই নীতি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়েছে।
আরেক ভোটার রবার্ট গল্ট বলেন, "নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প দ্রুত জিনিসপত্রের দাম কমানো ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখনো প্রতিমাসে তাদের খরচের হিসাবে উল্লেখযোগ্য কোনো স্বস্তি পায়নি।"
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনমতের এই পরিস্থিতি রিপাবলিকান সরকারের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে, কারণ দলটি কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়াই করছে। ডেমোক্রেটিক দলের নেতারা এই ফলাফলের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, ট্রাম্পের নীতি মূলত ধনীদের সুবিধা দিচ্ছে এবং সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তবে হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, দেশের কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক অর্থনৈতিক সূচক এখনো শক্তিশালী। তাঁদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার জটিলতা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ডেমোক্র্যাটদের নেওয়া নীতিগুলোই বর্তমান মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী।