ফেনীর ছাগলনাইয়ায় গভীর রাতে গ্রামে ঢুকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের মুঠোফোন তল্লাশির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা তিন যুবককে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। গতকাল শনিবার উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর যশপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আজ রোববার তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গতকাল রাত প্রায় ১১টার দিকে অটোরিকশায় করে তিন যুবক ওই গ্রামে আসেন। অটোরিকশা থেকে নেমে একজন বলেছিলেন, ‘আমরা পুলিশ, সবার ফোন দেখা।’ এরপর তারা একে একে গ্রামবাসীর মুঠোফোন তল্লাশি শুরু করেন। তাদের আচরণ ও কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের আটক করেন। পরে জানা যায়, তাঁরা পুলিশ সদস্য নন।
কারাগারে যাওয়া তিন যুবকের নাম ইমাম হোসেন (২৮), নাজমুল হক (৩৮) ও রাজীব হোসেন (৩৬)। ইমাম হোসেন ছাগলনাইয়া পৌরসভার বাঁশপাড়া গ্রামের রহিম উল্লাহর ছেলে। নাজমুল হক একই গ্রামের কবির আহাম্মদের ছেলে এবং রাজীব হোসেন দক্ষিণ যশপুর গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার নাজমুল হকের বিরুদ্ধে আগেও পুলিশ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ ছাগলনাইয়া থানায় আটটি মামলা রয়েছে। ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগে দুটি মামলা আছে। গতকালের ঘটনায় যে অটোরিকশায় তারা উত্তর যশপুরে গিয়েছিলেন, চালক ছিলেন রাজীব হোসেন। তিনিও সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার হন।
যশপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ কামাল জানান, তল্লাশির সময় এক যুবকের মুঠোফোন নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন ওই তিন যুবক। তারা দাবি করেন, ওই যুবকের ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ রয়েছে। তবে পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া করে আটক করে। এরপর তারা পুলিশকে খবর দেয়।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের বলেন, নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি চক্র বিভিন্নভাবে পুলিশ পরিচয় দিয়ে মানুষকে হয়রানি করত। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে টাকা দাবি করত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পর আজ বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।