কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্মাবলম্বীদের অবমাননার অভিযোগে গত ১১ এপ্রিল পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীমের মরদেহ কবরস্থান থেকে তুলে তাঁর দরবারে দাফন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ধারণা করছেন।

এ ঘটনার পর আজ শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দরবার থেকে তাঁর মরদেহ উত্তোলন করে। পরে বিকেল চারটার দিকে আবার আগের কবরে তা দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রদীপ কুমার দাশ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ঘটনার পর এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।"

দৌলতপুরের ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা পীর আবদুর রহমানকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত ১১ এপ্রিল কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার দুই দিন পর ১৩ এপ্রিল আবদুর রহমানের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

আবদুর রহমানের ভাই ফজলুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আজ সকালে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর ভাইয়ের মরদেহ করবস্থান থেকে কে বা কারা উত্তোলন করেছে। এরপর কবরস্থানে গিয়ে কবরটি খোঁড়া ও ওপরের মাটি এলোমেলা দেখতে পান। পরে দরবার প্রাঙ্গণে একটি নতুন কবর দেখতে পান। তাঁর ধারণা, গতকাল দিবাগত রাতের কোনো এক সময় মরদেহটি তুলে দরবার প্রাঙ্গনে দাফন করা হয়েছে।"

খবর পেয়ে আজ দুপুরে ঘটনাস্থলে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ ও দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ২০ থেকে ২৫ সদস্যের একটি দল ছিল।

প্রদীপ কুমার দাশ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "তিনি দরবারে গিয়ে নতুন মাটি দেওয়া জায়গা দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনকে দিয়ে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে কবরস্থানে গিয়ে পুরোনো কবর খোঁড়ার আলামত দেখতে পান। সেখানকার কবরটি খুলে মরদেহ না দেখে নিশ্চিত হন, দুর্বৃত্তরা রাতের আঁধারে তা তুলে দরবারে দাফন করেছে।" তিনি বলেন, "আদালতের অনুমতি ছাড়া মরদেহ তোলার কোনো বিধান নেই। যারা এ কাজ করেছে, তাদের ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এ ঘটনায় যাতে এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য এলাকায় পুলিশের টহল থাকবে। পরিবার থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। তারা মামলা না করলে পুলিশ মামলা করতে পারে।"