পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পুলিশের গ্রেপ্তার করা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইদ্রিস খান চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা একটি মামলায় তাঁর ছেলে কাউসার খান ও নাতি মোকসেদুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার বাদী আবদুল কাইয়ুম সিকদারের দাবি, গত ৩০ আগস্ট ইদ্রিস খানের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় ৩১ আগস্ট তিনি রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন, যেখানে ইদ্রিস খানসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিনসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য ওই এলাকায় গিয়ে কাউসার খান ও মোকসেদুলকে গ্রেপ্তার করেন। তবে গ্রেপ্তারের পর মোকসেদুলকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং পুলিশ কেবল কাউসার খানকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার উপপরিদর্শক রেজাউল শেখ জানান, এলাকাটি দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় কিছু নারী ও পুরুষ আসামিদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঝামেলায় জড়ান। গ্রেপ্তারকৃত কাউসার খানকে আজ শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার কাউসার খানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, শুক্রবার তাঁর স্বামী ও মোকসেদুল মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন, তখন পুলিশ তাঁদের বাধা দিয়ে কাউসার খানের হাতে হাতকড়া পরায়। পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখতে চাইলেও তারা তা দেখাতে পারেনি, তাই তাঁরা বাধা দিয়ে মোকসেদুলকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেন। তবে তাঁরা পুলিশের ওপর হামলা করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা ইদ্রিস খান। তিনি বলেন, "আমি অসুস্থ থাকায় এখন এলাকায় অবস্থান করছি না। পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছাড়িয়ে নিতে আমি কাউকে কোনো নির্দেশ দিইনি। পুলিশ অন্যায়ভাবে মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় আমার ছেলে কাউসার ও নাতি মোকসেদুলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আমার নাতি পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যায় বলে আমি শুনেছি।"