সরকারি নির্দেশনায় আলু সংরক্ষণের হিমাগার ভাড়া প্রতি কেজি ছয় টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বগুড়া শহরের সাতমাথায় আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উৎসব পালন করেন। ‘আলু ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বডি’র কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে এ আয়োজন করা হয়।

সংগঠনটির নেতারা জানান, চলতি বছর পর্যন্ত হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণের জন্য প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ছয় টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়া আদায় করা হতো। যৌক্তিক হারে ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে তারা আগেও আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সাতমাথায় পথচারী, চাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণকালে সংগঠনের সভাপতি সামিউল ইসলাম বলেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য প্রতি কেজিতে ৬ টাকা ৭৫ পয়সা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল, যা আমাদের কাছে অযৌক্তিক মনে হয়েছে। আমরা যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করেছি। সরকার আমাদের দাবি বিবেচনা করে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত এই ভাড়া দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কৃষিমন্ত্রী এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রেজাউল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ রুহুল আমিন, সুশান্ত বর্মন, সোহরাব হোসেন রাতুল, রংপুর জেলা প্রতিনিধি মুক্তার হোসেন, দিনাজপুরের কৃষক কেঁচো মানিক, নীলফামারীর রোকনুজ্জামান রিপনসহ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বগুড়া মাঠ ও বাজার পরিদর্শক আবু তাহের জানান, গত ৩১ আগস্ট হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজি ছয় টাকা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ভাড়া কার্যকর থাকবে। তিনি আরও জানান, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোর্শেদ আল মাহমুদের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। শনিবার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলার বিভিন্ন হিমাগারে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে.