জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় পৌঁছালে নেতারা জনগণের দাবি আদায়ে অবিচল থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা সরকারের ওয়াদা লঙ্ঘন ও ভাঁওতাবাজির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, "সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে তা লঙ্ঘন করছে। জনগণ তাদের কখনো ক্ষমা করবে না। তাই জনগণের দাবি না মানা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না। দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।"

কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি আরও বলেন, "স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় আপনাদের সহযোদ্ধারা রক্ত ঢেলেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই দাবি এখনও পূরণ হয়নি। সেই দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই আমরা রাজপথে নেমেছি। ইনশাআল্লাহ, দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।" গণভোটের রায় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, "আমরা রাজপথে নেমেছি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। আমরা রাজপথে নেমেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আপনাদের ঘরে ঘরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বাতির সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য।"

পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, "তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের এসব মৌলিক দাবি পূরণ করতে না পারলে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।" এ সময় তিনি গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, "দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। এই রায় সরকার নিজে থেকে বাস্তবায়ন না করলে তাদের ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করা হবে।"

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন এবং দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে; তার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।" চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ৬ দফা দাবিতে শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চটি যাত্রা শুরু করে। নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে এটি কুমিল্লায় পৌঁছালে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখা হয়।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সভা পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়েব আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইনসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক।