বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক সতর্ক করেছেন যে, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণের প্রদত্ত ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় যদি উপেক্ষিত হয়, তবে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। তিনি জানান, গণভোটের ফলাফলকে অবৈধ ঘোষণা করার চেষ্টা চালানো হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া শহরের সাতমাথার মুক্তমঞ্চ বা খোকন পার্ক প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বগুড়া জেলা শাখা এই সমাবেশের আয়োজন করেছিল। সমাবেশের মূল দাবি ছিল গণভোটের জনরায় কার্যকর করা এবং জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রেক্ষাপটে মামুনুল হক বলেন, একই তপশিল ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে একটি পক্ষ ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় আসলেও, গণভোটে প্রদত্ত ৭০ শতাংশ মানুষের রায় বানচালের চেষ্টা করা হলে তা জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে।
সংবিধানের সামান্য পরিবর্তনের চেয়ে আমূল সংস্কারের পক্ষে থাকেন খেলাফত মজলিসের আমির। তিনি বলেন, ‘অতীতে সংবিধানে ১৭ বার সংশোধনী আনা হলেও পরবর্তীকালে রাজনৈতিক বা আদালতের হস্তক্ষেপে সেগুলো টিকেনি। তাই সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে এমন স্থায়ী ভিত্তিতে সংযোজন করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে কোনো শাসক বা আদালত তা বাতিল করতে না পারে।
সরকারের ত্রুটিগুলো তুলে ধরা রাজনৈতিক দলগুলোর একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি খলিফা ওমর (রা.)-এর শাসনকালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা মনে করিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতৃভূমি বগুড়ায় দাঁড়িয়ে মামুনুল হক আরও বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে হলে ‘জুলাই সনদ’-এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। একই সময় ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে কাদা-ছোড়াছুড়ি ও বিভেদ দূর করে বৃহত্তর ঐক্যের আহ্বান জানান তিনি।
বাদ জুমা নামাজের পর শুরু হওয়া এই নাগরিক সমাবেশে সংগঠনের বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি মামুন রহমানীর সভাপতিত্ব করেন। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের চলমান সংকট নিরসনে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সমাবেশে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।