মুক্তকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেটের দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শন শেষে হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি কেনার টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে; বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরের চৌহাট্টা এলাকায় প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও চালু করা হয়নি। প্রায় তিন বছর ধরে হাসপাতালটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এ নিয়ে গত ২৬ আগস্ট ‘আশ্বাস মিলেছে বারবার, তবুও চালু হয়নি শতকোটির হাসপাতাল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মুক্তকণ্ঠ। এর এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালটি পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর এমপিও তার সঙ্গে ছিলেন।

হাসপাতালটি দ্রুত চালুর বিষয়ে স্বাস্থ্য সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত এই হাসপাতালের ফার্নিচার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ নিয়ে কাজ করছেন।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং পরামর্শক নিয়োগের টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

জনবল নিয়োগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় পদ সৃজনের কাজ এগিয়ে চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।

চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও ৭ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবল নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত পরিশ্রম করে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

সিলেটে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটে একটি শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন।

নগরের চৌহাট্টা এলাকায় প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যার সিলেট সদর হাসপাতালের নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও এত দিন হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

গণপূর্ত অধিদপ্তর হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডকে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু করে। কাজ শেষ হওয়ার পর হাসপাতালটির দায়িত্ব নেওয়ার মতো কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় সেটি হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। পরে গত জুনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে হাসপাতালটির দায়িত্ব দেয়। এর পর হাসপাতালটি চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।