কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় চার দিন পর অবশেষে দৃশ্যমান হয়েছে রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ঝুলন্ত সেতু। তবে সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলতে থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত না করা সত্ত্বেও সেতুতে পর্যটকদের ভিড় জমতে দেখা গেছে।
রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানির স্তর বেড়ে যায়। এরপর গত ২৯ আগস্ট ঝুলন্ত সেতুটি সম্পূর্ণরূপে পানির নিচে তলিয়ে যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ সেতুতে চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে পানি নামতে শুরু করায় বর্তমানে সেতুটির পাটাতন ভেসে উঠেছে। নিরাপদ ও চলাচলের উপযোগী করতে কর্তৃপক্ষ এখন ধোয়ামোছা ও সংস্কারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকরা আনুষ্ঠানিক খোলার অপেক্ষা না করেই সেতুতে উপস্থিত হচ্ছেন। অনেকেই নিয়ম লঙ্ঘন করে সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন এবং ছবি তুলছেন।
ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী মো. সাকিব বলেন, রাঙামাটিতে এসে শুনেছিলাম ঝুলন্ত সেতু পানির নিচে, তখন বেশ মন খারাপ হয়েছিল। তবে এখন সংস্কারকাজের মধ্যেই সেতুতে হাঁটতে পেরে দারুণ লাগছে।
কুমিল্লা থেকে আসা জিনায়াত আক্তার জানান, ডুবে থাকা সেতু দেখার প্রস্তুতি নিয়ে এলেও সেতু দৃশ্যমান হওয়া এবং সেটিতে ঘুরে বেড়াতে পেরে ভ্রমণ সার্থক হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত ফারিয়া জানান, প্রথমবার বন্ধুদের সঙ্গে রাঙামাটিতে এসে প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগের কথা।
সেতুটি টানা চার দিন ডুবে থাকায় পর্যটক সমাগম কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে সেতু ভেসে ওঠায় পর্যটন ব্যবসা শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদী রাঙামাটি পর্যটন বোট ঘাটের ইজারাদার মো. ফখরুল ইসলামসহ স্থানীয় পর্যটন ব্যক্তিরা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানি আরও কমে গেলে এবং প্রয়োজনীয় ধোয়ামোছা ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমতি সাপেক্ষে সেতুটি পর্যটকদের চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।