চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দুটি ইউনিয়নে চলমান দুই বাল্যবিবাহের আয়োজন একই দিনে বন্ধ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিনের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আজ শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
জুড়ানপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে স্কুলছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। পার্শ্ববর্তী গ্রামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বেলা একটার দিকে বরপক্ষ বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছালে স্থানীয়রা মুঠোফোনে ইউএনও লাভলী ইয়াসমিনকে বিষয়টি জানান। নির্দেশনা পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিয়ে বাতিল করেন। কিশোরীর বয়স ১৪ বছর হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে কনের ও বরের পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীন আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিশোরীর বয়স ১৪ বছর হওয়ায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই স্কুলছাত্রী প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগপর্যন্ত বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে উভয় পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।"
অন্যদিকে, কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে আরেক কিশোরীর বিয়ের খবর পেয়ে ইউএনও লাভলী ইয়াসমিন নিজেই সেখানে যান। তিনি সেখানেও ভ্রাম্যমাণ আদালত চালিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন এবং অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেন।
লাভলী ইয়াসমিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "অভিযানের সময় ওই বাড়িতে ছেলেপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। খবর শুনে বরপক্ষ চলে গেছে বলে জানা যায়। ওই বাড়িতে তেমন কোনো আয়োজনও ছিল না। মেয়েটি এবার এসএসসি পাস করেছে। তার বয়স ১৮ পূর্ণ হয়নি। পরে ছয়জন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে মা–বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে মেয়েকে তাঁরা দেবেন না।"