কুমিল্লার বরুড়ায় ৯ বছর বয়সী শিশু নাদিয়া সুলতানা ইমুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে (২২) যাবজীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মাজহারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জসিম বরুড়া উপজেলার ভাউকসার ইউনিয়নের গজারীয়া পূর্ব কলনীপাড়া গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে। নিহত শিশু ইমু একই গ্রামের মনজুমা বেগমের কন্যা এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিকেলে পরীক্ষা শেষে সে পাশের গ্রামের খালার বাড়িতে বেড়াতে গেলে থেকে আর ফেরেননি। সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয়রা তাকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাশের বাঁশঝাড় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকালীন সময়ে জসিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী জানান, জসিম শিশুটিকে বাড়ির পাশের নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করার পর শিশুটি যদি এই ঘটনা কাউকে জানাতে পারে, সেই ভয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখেছিলেন। পরে বরুড়া থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।
শিশুটির মা মনজুমা বেগম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আমার মেয়েকে জসিম নিষ্ঠুরভাবে দম বন্ধ করিয়ে হত্যা করেছে। ইমু আমার দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিল। আমার কলিজার ধনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আমরা আসামির মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি। সে আমার মেয়েকে যেভাবে হত্যা করেছে আমিও তার মৃত্যু চাই। আদালত তাকে যাবজীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করবো।