কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রামমোহন তমিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ceremony-তে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন তিনি। তাঁরই বক্তব্যে এই আশ্বাসের কথা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।”
প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ১৯২৬ সালে একটি জুনিয়র স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল রামমোহন তমিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বরুড়া উপজেলার শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এই বিদ্যালয়ের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের কেবল পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।
বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের বিষয়ে ইউএনওর এই ইতিবাচক আশ্বাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত এই জাতীয়করণের উদ্যোগটি সফল হবে। পাশাপাশি, বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় টেবিল সরবরাহসহ চার তলা ভবনের বাকি কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরুড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি কায়সার আলম সেলিম। বিদ্যালয়ের সভাপতি ফাহিম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে পুরো অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনির হোসেন। তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করেন গোপালনগর আলোকিত যুব সংঘের আহ্বায়ক ও রামমোহন বার্তার সম্পাদক সুমন রানা।
পুরো আয়োজনটিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।