কুমিল্লার বরুড়ায় অটোরিকশার ভাড়ার ভাংতি টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোহেল মিয়া (৩২) নামে এক চালক প্রাণ হারিয়েছেন। অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের নির্মম প্রহারে তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের মধ্যে একজনকে আটক করেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বরুড়া উপজেলার ঝলম বাসস্ট্যান্ড মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সোহেল মিয়া বরুড়া উপজেলার বিলপুকুরিয়া গ্রামের মৃত আবু তাহেরের ছেলে। অন্যদিকে, এই ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত দুই ভাই হলেন হাসান ও হোসাইন। তারা ‘বলাকা বাস’-এর কেরানি মো. আবুল বাশারের সন্তান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী ইকবাল জানান, অটোরিকশার ভাড়া পরিশোধ করার সময় ভাংতি টাকা দেওয়া নিয়ে সোহেল মিয়ার সঙ্গে ওই দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। বিবাদের এক পর্যায়ে সোহেল হাসানকে একটি চড় মারেন। এর পরপরই বলাকা বাসের কর্মী এবং হাসানের ভাই হোসাইন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সোহেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। এই প্রচণ্ড মারধরের ফলে সোহেল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আহত সোহেলকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত বরুড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক জানান, “এ ঘটনায় অভিযুক্ত হোসাইনকে আটক করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।