মুঠোফোনের রিচার্জ ব্যালান্স দিয়ে অনলাইন কেনাকাটার সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত জুলাইয়ে অপারেটরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাসিক সীমা ৫ হাজার টাকা এবং বার্ষিক সীমা ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই সীমা শর্ত সাপেক্ষে আগামী ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।

ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং বা ডিওবি পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই মুঠোফোন ব্যালান্স ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনা যায়। ২০১৮ সালে দেশে এই সেবা চালুর সময় মাসে ৬০০ টাকা ও বছরে ৩ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা ছিল। ২০২৪ সালে মোবাইল অপারেটররা সীমা বৃদ্ধির জন্য বিটিআরসির কাছে আবেদন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও বিটিআরসির যৌথ পর্যালোচনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সীমা বাড়ানো হয়।

বিটিআরসির নথি অনুযায়ী, গ্রামীণফোন গত মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি উল্লেখ করে বিটিআরসিতে অনুমোদনের আবেদন করে। বর্তমানে শুধুমাত্র গ্রামীণফোনই এই সীমা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের গ্রাহকদের জন্যও ডিওবি লেনদেনের একই সীমা অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ তিন কোম্পানিকে এখন বিটিআরসিতে আবেদন করতে হবে এবং একই শর্তে তাদের ক্ষেত্রেও সীমা বাড়ানো হবে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ মুক্তকণ্ঠ কে বলেন, "ডিওবির লেনদেনের সীমা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রাহকেরা তাঁদের মুঠোফোনের ব্যালান্স ব্যবহার করে আরও সহজে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা কিনতে পারবেন।"

ডিওবি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, গেমিং, সংগীত, সরকারি সেবা, ধর্মীয় ও লাইফস্টাইলভিত্তিক সেবা কেনা সম্ভব। গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা জিপি’র নিজস্ব সেবাসহ শিখো, সুখী, নেটফ্লিক্স, চরকি, আইস্ক্রিন, দীপ্ত প্লে, র‍্যাবিটহোল, স্বাধীন মিউজিক, চর্চা, ইবাদাহ, দীন ও ক্লাউড স্টোরেজ সেবা ব্যবহার করছেন। প্রত্যয়ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি সেবার ফি পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক মডেম ও রাউটার এককালীন বা কিস্তিতে কেনার সুযোগও যুক্ত করা হয়েছে।

তবে এই লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছু কঠোর শর্ত পালন করতে হবে। অপারেটরদের অবশ্যই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন মেনে চলতে হবে। শুধুমাত্র মুঠোফোনে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পণ্য বা সেবার কেনাবেচা করা যাবে। ডিজিটাল পণ্য বা সেবা নির্বাচনের সময় অপারেটরের নিজস্ব পণ্য বা সার্ভিস (যেমন ডেটা) কতটুকু ব্যবহৃত হচ্ছে তা বিবেচনায় নিতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাপ ও ভার্চ্যুয়াল কারেন্সি কেনাবেচা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ডিওবির আওতায় স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রায় জুয়া, ক্যাসিনো, লটারি, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল অ্যাসেট কেনাবেচা, ফরেক্স বা শেয়ারবাজারে ট্রেডিং এবং মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।