বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগরের এক ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জামালপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র নজরুল ইসলাম সওদাগরই বকশীগঞ্জ বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন এবং আওয়ামী লীগে যুক্ত হওয়ার সময় তিনি সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শ নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বকশীগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে মানিক সওদাগর বলেন, "আমাদের বকশীগঞ্জের বিএনপি টিকিয়ে রেখেছেন নজরুল ইসলাম সওদাগর। আজ তার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে, তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আমি এই মঞ্চে বলে গেলাম, এখনো যারা ভালো হননি, তারা ভালো হয়ে যান।"

নজরুল ইসলাম সওদাগরের দল পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "বকশীগঞ্জের বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা কে, কোন বাড়ি থেকে বিএনপির জন্ম হয়েছে, আপনারা তা জানেন। তাকে জোর করে আওয়ামী লীগ বানালে হবে না। ফ্যাসিস্ট আমলে সে মিল্লাত ভাইয়ের পরামর্শ নিয়েই আওয়ামী লীগে গিয়েছিল। আজ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কারা ষড়যন্ত্র করছে, আপনারা জানেন। কোথা থেকে এসেছে কার দল, কে তৈরি করেছেন।"

মানিক সওদাগর নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোকেও ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, "আপনারা যারা বিএনপি করেন, ইউনিয়নে যারা আছেন—কেউ যদি বলতে পারেন নজরুল ইসলাম সওদাগরের দ্বারা ক্ষতি হয়েছে, তাহলে চ্যালেঞ্জ। তাকে ষড়যন্ত্র করে তিনটি হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কারা ফাঁসিয়েছে, আমরা জানি। দুঃখের বিষয়, বিএনপি থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে যদি ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে তা পারবে না।"

তবে উপজেলা বিএনপি সভাপতির এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জামালপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব। তিনি বলেন, "দায়িত্বশীল একটি জায়গা থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া তার উচিত হয়নি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। পুরো বিষয়টি জামালপুর জেলা বিএনপি কেন্দ্রীয় বিএনপিকে জানাব। পরে কেন্দ্রীয় বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"

মানিক সওদাগর ও নজরুল ইসলাম সওদাগর আপন ভাই। নজরুল ইসলাম সওদাগর বকশীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং বর্তমানে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক। ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীর সাথে নজরুল ইসলাম সওদাগর উপস্থিত হলে জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এছাড়া, গত ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলার অভিযোগসংবলিত নজরুল ইসলাম সওদাগরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বক্তব্যে মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে জড়ানোর পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জানতে চাইলে মিল্লাত সাড়া দেননি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ওই অনুষ্ঠানে মিল্লাত প্রধান অতিথি হিসেবে আসার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার শাকিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স.