চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর এলাকায় সাংবাদিক ও পুলিশের পরিচয়ে এক নারীর বাসায় প্রবেশ করে চাঁদাবাজি, শ্লীলতাহানি ও সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থলেই দুজনকে আটক করে পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবার পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হালিশহর থানায় মামলা করেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শান্তিরহাট এলাকার একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় এই ঘটনা ঘটে। আনোয়ারা বেগম (৫৩) ও তার দুই ছেলের বউ ঘরে থাকাকালীন আসামিরা জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকে। তাদের কাছে ওয়াকিটকি, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও ভিডিও ক্যামেরা ছিল। বাসায় অসামাজিক কার্যক্রম চলছে বলে মিথ্যা অভিযোগ এনে তারা বৃদ্ধা ও পুত্রবধূদের ছবি ও ভিডিও ধারণ শুরু করেন। পরে নিজেকে পুলিশ ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা না দেওয়ায় আসামিরা আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর ও তছনছ করতে থাকে। এ সময় আনোয়ারা বেগমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং শ্লীলতাহানি করা হয়। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এলে বিষয়টি জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পালানোর চেষ্টা চালান আসামিরা। স্থানীয়দের সহায়তায় শাখাওয়াত হোসেন ও মো. মঈনুদ্দীনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত ওয়াকিটকি ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মণ্ডল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।" পলাতক আসামিরা হলেন মো. জাহিদ, মো. মোস্তাফিজ ও বাবুল।