চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচি নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়া দুই যুবককে পুলিশ শনাক্ত করেছে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও তাদের কারো গ্রেপ্তার হয়নি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। স্থানীয় সূত্র জানায়, শনাক্তকৃত যুবক দুইজন হলেন সিরাজ ও সাদেক। সিরাজ মিরসরাইয়ের এবং সাদেক সীতাকুণ্ডের বাসিন্দা। সংঘর্ষের সময় তাদের অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে তাড়া করতে দেখা যায় এমন ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, জঙ্গল সলিমপুরের আলোচিত রোকন উদ্দিন মেম্বারের অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই দুই যুবক। সংঘর্ষের সময় রোকন উদ্দিন মেম্বারকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় দেখা গেছে। তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি।

সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ দুপক্ষকে পৃথক সময়ে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে আসলাম চৌধুরীর সমর্থকেরা ক্লাব প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। অন্যদিকে কাজী সালাউদ্দিনের সমর্থকেরা হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় জড়ো হন।

দুপুর ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর সমর্থকেরা মিছিল নিয়ে মসজিদ এলাকায় গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিওতে দুই যুবককে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া দিতে দেখা যায়। ঘটনায় দুপক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে।

কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ধারালো অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান।

অন্যদিকে আসলাম চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট মোহাম্মদ মোরসালিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তারা বিকল্প স্থানে কর্মসূচি পালন করেছেন। উল্টো কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরাই বিভিন্ন স্থানে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. রাসেল বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে অস্ত্রধারীকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনায় কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তবে তদন্তের স্বার্থে শনাক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ না করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।