ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম কমেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ বুধবার নতুন দাম ঘোষণা করেছে। এর ফলে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আগের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কার্যকর হবে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১ টাকা ৩ পয়সা কমে ১৩২ টাকা ১২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে এটি ছিল ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা। এই হার অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম উচ্চপর্যায়ে পৌঁছায়। যুদ্ধবিরতি লাভ করলে সেখানে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসলেও দুই মাস ধরে দাম ওঠানামা করছে। গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বেড়েছিল। এর আগে গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। এপ্রিলের শুরুতে দাম বাড়ানো হয় ৩৮৭ টাকা এবং একই মাসের ১৯ তারিখে আরও ২১২ টাকা। তবে জুন ও জুলাইয়ে টানা দুই মাস ধরে দাম কমানো হচ্ছে।

বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে তা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নিয়ে থাকেন। বর্তমান গ্যাস সংকটে রান্নার কাজে এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়েছে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে, সরকারি কোম্পানির সরবরাহকৃত সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বিইআরসি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে। প্রোপেন ও বিউটেন আমদানির মাধ্যমে এলপিজি তৈরি করা হয়। প্রতি মাসে সৌদি আরবের আরামকো প্রতিষ্ঠান এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে, যা সৌদি কার্গো মূল্য বা সিপি নামে পরিচিত। বিইআরসি এই সিপি-কে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে দাম সমন্বয় করে। আমদানিকারকদের চালানের মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের বিনিময় হার হিসাব করে কমিশন।