ফেনীর ছাগলনাইয়ায় প্রেমিকার বসতঘর থেকে মো. সুমন (৩০) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পাঠানগড় এলাকার এক নারীর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুমনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায় হলেও তিনি ছাগলনাইয়ার শুভপুরের পূর্ব জয়পুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। তিনি চট্টগ্রামে লরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার ১২ বছরের এক ছেলে ও ৮ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমনের সঙ্গে পাঠানগড় গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর দীর্ঘদিনের মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে সুমন ওই নারীর বাড়িতে যান। একপর্যায়ে সুমন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে ওই নারী অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার পর বাথরুম থেকে সুমনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

অভিযুক্ত নারী ফারজানা আক্তার পুলিশের কাছে দাবি করেন, বিয়ের চাপে রাজি না হয়ে তিনি সুমনকে বলেছিলেন, ‘আপনারও সন্তান আছে, আমারও আছে। প্রেম করলে কী মানুষ বিয়া করে নাকি?’ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুমন বাথরুমে ঢুকে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে তার দাবি।

তবে সুমনের পরিবার এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে। নিহতের স্বজনেরা জানান, গত তিন দিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে বাড়ি ফেরার কথা বলে সুমন নিখোঁজ ছিলেন।

নিহতের বোন নাসিমা বেগমের অভিযোগ, সুমনের সঙ্গে ২-৩ বছরের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ফুঁসলিয়ে ঘরে এনে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এটি আত্মহত্যা না হত্যা, তা নিশ্চিত হতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট নারীকে থানায় আনা হয়েছে এবং নিহতের মোবাইল ফোনসহ আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।