উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের আয়োজনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের আমলে তাঁকে মানসিক নির্যাতন দেওয়া হয়েছিল, যার প্রভাব আজও তাঁর ওপর রয়েছে।
তিনি বলেন, "৩ সেপ্টেম্বর আমাদের প্রিয় নেতা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস। আমাদের প্রিয় নেতাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তাকে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেই নির্যাতনের স্মৃতিচিহ্ন এখনও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।"
রুমন জানান, নেতা নিজেই সেই দিনগুলো স্মরণ করতে চান না। তিনি বলেন, "তবে আমাদের প্রিয় নেতা নিজেই বলেছেন, তিনি সেই দিনগুলো মনে রাখতে চান না। আমরা যদি সেই দিনগুলোর কথা মনে রাখি এবং প্রতিশোধ নিতে যাই, তবে তা পাঁচ বছরেও শেষ হবে না। পাঁচ বছরে যদি আমরা সেই প্রতিশোধগুলোই নিতে যাই, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আমাদের প্রিয় নেতাকে ভোটের মাধ্যমে তাদের যে আকাঙ্ক্ষা পূরণে প্রধানমন্ত্রী করেছেন, সেই কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সফল হবে না। তাই আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান চান দুঃসহ স্মৃতিগুলো পেছনে ঠেলে দেশের উন্নয়ন করে সামনে এগিয়ে যেতে।"
ষড়যন্ত্র ও ঐক্যের আহ্বান রেখে তিনি বলেন, "বিগত সময় বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, ঠিক ওই সময় আমাদের প্রিয় নেতাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন আমাদের প্রিয় নেতার ভালো কাজগুলো ভুলুণ্ঠিত না হয়। আমরা যেন সকলেই, বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপি নেতারা, আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের ভালো কাজগুলো হাতে হাত মিলিয়ে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সফল করতে পারি।"
জনগণের ক্ষমতা ও ইতিহাস তুলে ধরে রুমন বলেন, "বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, এ দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এ দেশের জনগণ সেই প্রমাণ রেখেছে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। স্বৈরাচার এরশাদ ও ওয়ান ইলেভেন সরকারকে হটিয়েছে তারা। সর্বশেষ ছাত্র-জনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জুলাইয়ে যুদ্ধ করে শেখ হাসিনার মতো দানব স্বৈরাচারকে হটিয়েছে।"
দিবস পালন ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, "আজ আমাদের প্রিয় নেতার ১৯তম কারামুক্তি দিবসে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে দুঃসময়ের করুণ কথাগুলো। বিগত ১৯ বছরে এই দিবসটি যথাসময়ে আমরা পালন করেছি। আজও পালন করছি। কিন্তু আজকের চিত্র আর ওই দুঃসময়ের চিত্র এক ছিল না। আমরা কীভাবে সে সময়ে অনুষ্ঠান সফল করেছিলাম, আপনারা তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। সে সময় এই দিবস পালন করতে গিয়ে স্বৈরাচারের চোখ রাঙানি, কারাবরণসহ বিভিন্নভাবে আপনারা নির্যাতিত হয়েছেন। তবুও চুপ থাকেননি। আজকের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল দিবসটি পালনে যথাযথ সহায়তা করেছেন। আমাদের অনুষ্ঠান হবে, আমরা সাংবাদিকদের জানিয়েছি আর জানিয়েছি বিশ্বস্ত নেতাদের। আমরা অনেকটা গোপনে ডেকেছি, প্রশাসনকে জানতে দিইনি কোথায় ও কখন অনুষ্ঠান হবে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, সাংবাদিকদের জানিয়েছি দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে। ওই সময় অনেক সাংবাদিকের কথা মনে পড়ে, যারা আমাদের ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছেন, যা অতুলনীয়। যাদের সহযোগিতায় আমরা প্রচার পেয়েছি, আমরা উদ্দীপনা পেয়েছি এবং আমরা অনুষ্ঠানগুলো সফল করতে পেরেছি।"
সভাপতিত্ব করেন আতিকুর রহমান রুমন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও উত্তরাঞ্চল ছাত্রফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান, ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ উত্তরাঞ্চলের ছাত্রনেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন.