ঢাকার সাভারে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর নির্দেশে শ্রমিক সর্দার নুহু শিকদারকে আটকে রেখে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দুপুরে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে কেবলার চরের একটি অফিসে আটক রাখা হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নুহু শিকদার সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী থানার পশ্চিম জোতপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন শিকদারের ছেলে। তিনি আমিনবাজার কেবলার চর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন এবং স্থানীয় ঘাটে সিমেন্ট খালাসের কাজের জন্য শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর অধীনে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক সোহাগ ট্রাসপোর্ট এজেন্সির কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সম্প্রতি নুহু শিকদার আরেক ব্যবসায়ীর ঠিকাদারিতে শ্রমিক সরবরাহ শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে বিবাদ তৈরি হয়।
নুহু শিকদারের বরাত দিয়ে জানা যায়, সোহাগ ট্রাসপোর্ট এজেন্সির স্বত্ত্বাধিকারী মো. সোহাগ ক্ষুব্ধ হয়ে গত সোমবার দুপুরে ৮ থেকে ৯ জন সহযোগীসহ তাকে দিয়াবাড়ি থেকে তুলে নেন। কেবলার চরের অফিসে আটকে রাখা হলে স্টিলের পাইপ ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জাকির হোসেন বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগীকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবার থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত মো. সোহাগ আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফালানের ঘনিষ্ট। এ বিষয়ে মো. ফালান জানান, সোহাগ তার আত্মীয়। তিনি কোনো অন্যায়-অপরাধকে সমর্থন করেন না। পুলিশের কাছে তিনি কোনো ধরনের সুপারিশ করেননি। অপরাধী যে-ই হোক আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।
সংবাদ সংগ্রহকালে সোহাগের ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি যোগাযোগ করেননি।