পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ছয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহতরা হলেন—সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (আইটি) ফাহাদ হোসেন, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএ্যান্ডএম) তানজিম আল মাহমুদ, জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন, মিটার রিডার কাম ম্যাসেঞ্জার ইমন খান, মিটার রিডার জিসান দেওয়ান ও লাইন টেকনিশিয়ান জাকির হোসেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিকাঠী এলাকার খোকন মহাজনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। দলটি অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করে বিচ্ছিন্নের কাজ শুরু করলে স্থানীয়রা বাধা দেন। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মুসা মহাজন ও তার অনুসারীরা লাঠি, বাঁশ ও দা নিয়ে কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এজাহারে বলা হয়, মুসার হাতে থাকা লাঠির আঘাতে ইমরান হোসেন আহত হন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে ফাহাদ হোসেনকেও মারধর করা হয়। পরে ইমন খান উদ্ধারে এলে তার মাথায় লাঠি প্রহারে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা আশপাশের ৪০ থেকে ৫০ জনকে ডেকে এনে কর্মীদের মারধর, হুমকি দেয় এবং সরকারি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
ঘটনার পর আহত ইমন খানকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাড়িতে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করা হয়। সকলের চিকিৎসা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে দেওয়া হয়। ইমন খানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন বলেন, "অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রোধে নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা কালিকাঠী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে যান। এ সময় গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে আমরা দেখতে পাই, সার্ভিস তারে ছিদ্র করে সেখান থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।" তিনি বলেন, "বিষয়টি আমরা শনাক্ত করার পর ওই গ্রাহক আশপাশের লোকজনকে অন্যভাবে বুঝিয়ে বলেন, আমরা নাকি তার বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়েছি। আমরা যথেষ্ট পরিমাণ ডকুমেন্ট দেখিয়ে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কোনোভাবেই তা মানতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে তারা লাঠি, বাঁশ ও দা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা শুরু করে।"
আহত মিটার রিডার ইমন খান জানান, "অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের ডাকাত বলে লোকজন ডাকাডাকি করতে থাকেন। আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তারা বলছিলেন, ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাই না, বারবার লোডশেডিং হয়—এসব কথা বলে হামলা শুরু করেন। মারধরের সময় আমার ঘাড় ও পিঠে আঘাত লাগে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে আমাদের উদ্ধার করে।"
পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাপ হোসেন বলেন, "শংকরপাশা ইউনিয়নের কালিকাঠী গ্রামে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আমাদের অফিস থেকে একটি দল সেখানে যায়। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর কিছু লোক একত্রিত হয়ে তাদের ওপর হামলা করে।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের আরেকটি দল ও প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় মামলা করা হয়েছে।"
এজিএম (আইটি) ফাহাদ হোসেন বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মো. মুসা মহাজন, সজিব মহাজন, নিজাম উদ্দিন মহাজন, আখি, রোকেয়া বেগমসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৫৫ জনকে নাম উল্লেখ করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এ ঘটনায় মুসা নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"