ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, জিরোপয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তা ও ফুটপাতে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, "বিকল্প হিসেবে আমরা মতিঝিলে বিকেলে নাইট মার্কেট চালু করেছি, পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা ও নিয়ম মেনে তারা বসতে পারবেন।" বৃহস্পতিবার (সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর পল্টন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ডিএসসিসি আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ হুশিয়ারি দেন।

ভাসমান দোকান ও হকারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "ভাসমান যেসব দোকান রয়েছে। রাস্তায়, ফুটপাতে বসেন। তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। মানবিক প্রধানমন্ত্রী চান ঢাকা শহরে যে যেভাবে আছে, অন্তত কর্মের সংস্থান হচ্ছে বা নিজেরা বেঁচে থাকতে পারছে- কাজেই কখনও কোথাও উচ্ছেদ হবে না। তাদেরকে যেকোনো জায়গায় পুনর্বাসন করতে হবে, আমরা সেটা করতে চাই। কিন্তু সব জায়গায় তো আমরা সংস্থান করতে পারবো না। সব জায়গায়, সব ফুটপাতে তো আমরা হকার বসাতে পারবো না। সব এলাকায় সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে আমরা হকার বসাতে পারবো না। সেজন্য তাদেরকেও নিয়ম শৃঙ্খলা মানতে পারবো না। আমরা সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা নিয়েছি। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা আমাদেরকে দিয়েছে, হকারদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি এবং কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা সেটার কার্যকর ব্যবস্থায় যাবো।"

এছাড়া তিনি আরও বলেন, "আমরা বলেছি, এই জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু করে একদম সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় কোনো গাড়ি, রাস্তায়, ফুটপাতে কোনো হকার বসতে দেবো না। এটা পরিষ্কার। এবং হকাররাও একমত হয়েছে যে এখানে তারা আর কেউ বসবে না। কাজেই আমি বলবো, আমরা তাদেরকে সরিয়ে দেওয়ার আগেই যাতে তারা সেখান থেকে সরে যান। এরপর তাদের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যারা রেজিস্ট্রেশন করবে সিটি করপোরেশনের কাছে, তাদেরকে বিকল্প বসানোর ব্যবস্থা আমরা করছি এবং সেখানে তারা বসবে। মতিঝিলে আমরা অফিস আওয়ারের পরে, বিকেলে আমরা নাইট মার্কেট চালু করেছি। আমরা সেখানে হকারদেরকে বসার জন্য অনুরোধ করবো। সপ্তাহে ৭ দিন তাদেরকে আমরা বসাতে পারবো না। এটা তাদেরকেও মানতে হবে, নিয়ম অনুযায়ী, পরিষ্কার পরিচ্ছন অনুযায়ী, তাদের সেটা মানতে হবে। এ ব্যাপারে আমি সবার সহযোগিতা চাই।"

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডিএসসিসি ৩ লাখ গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে ৭০ হাজার বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, "দক্ষিণ সিটি পুরান ঢাকায় অবস্থিত হওয়ায় এ শহর পরিকল্পিত শহর গড়ে ওঠেনি। ফলে, যেখানে-সেখানে ভাসমান দোকান, কারখানা গড়ে উঠেছে। ভাসমান দোকান, ও ফুটপাতেট দোকানগুলো পরিবেশ দূষণ করছেন। দূষণ ঠেকাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।"