চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় ২০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে জেলাজুড়ে টানা ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে জেলার একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড গড়া হয়েছে। এর আগে গত বুধবার জেলায় ১৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে শিবগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬০, গোমস্তাপুর ও নাচোলে ২৫ মিলিমিটার করে মোট ৫০ এবং ভোলাহাট উপজেলায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলায় গড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০.২ মিলিমিটার।
টানা ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ও খামারে পানি প্রবেশের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মাঠপর্যায়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা কৃষকদের রোপা আমন ধানের জমিতে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশন করতে এবং নতুন সেচ বন্ধ রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন। শীতকালীন আগাম শাকসবজির চারা রক্ষায় পর্যাপ্ত নালা তৈরি ও বীজতলার সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের গোয়ালঘর ও হাঁস-মুরগির খামারে পানি জমতে না দেওয়া, পশুপাখিকে শুকনো খাবার দেওয়া এবং সংক্রামক ব্যাধি রোধে জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, নিচু এলাকার কিছু স্থানে সাময়িক পানি জমলেও এখন পর্যন্ত ফসলের বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, এই ভারী বর্ষণ রোপা আমন চাষের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি ধানের গাছের প্রাকৃতিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি কৃষকদের বিপুল পরিমাণ সেচ খরচ সাশ্রয় করবে।