নোয়াখালী সদর উপজেলার আশ্বদিয়া ইউনিয়নে ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বেধেছে। আজ শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। আহতদের জেলা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার উপজেলা ছাত্রদল আশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে। এতে ইয়াছিন আলমকে আহ্বায়ক এবং আব্দুল্লাহ আল বিন মাহিদকে সদস্যসচিব করা হয়। তবে নবগঠিত কমিটিতে পদ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। এরপর থেকেই তিনি ও তাঁর অনুসারীরা কমিটি বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
একই দিনের বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নবগঠিত কমিটির উদ্যোগে দিনুমনির হাটের অদূরে ইউপি কার্যালয় এলাকায় একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলের পথে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি তীব্র হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের কারণে উপজেলার সোনাপুর-কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
আনন্দ মিছিলে অংশ নেওয়া নতুন কমিটির আহ্বায়ক ইয়াছিন আলম, সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল বিন মাহিদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুমুর রহমান বলেন, "অশ্বদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিলটি বানচাল করার উদ্দেশ্যেই পদবঞ্চিতরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আজ এই হামলা চালায়। হামলায় তাঁদের পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁরা এ ঘটনার বিচার চান।"
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, "যোগ্য লোকদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো লোককে কমিটিতে পদ দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁরা অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবিতে আজ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন। ছাত্রদলের কতিপয় নেতা-কর্মী বহিরাগতদের দিয়ে বিনা উসকানিতে তাঁদের ওপর হামলা করেছে। এতে তাঁদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।"
কমিটিতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করিম উদ্দিন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "কমিটিতে কোনো অনিয়ম হয়নি। পদবঞ্চিত সাবেক কমিটির নেতা মোশাররফ হোসেন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে। কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে নতুন কমিটির লোকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। প্রশাসনের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।"
এদিকে, সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা সদর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ ও সুধারাম থানা পুলিশের দল ঘটনাস্থলে যায়। সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে জানান, "বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে ঘটনার বিষয়ে কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।"