ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ পৃথক দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ফিতা কেটে এগুলোর উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই দুই লেনবিশিষ্ট এই সেতুগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। সেখানে কোনো টোল আদায় করা হবে না এবং সকল প্রকার যানবাহন চলাচলে স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, "একসময় প্রকল্পটির কাজ স্থবির হয়ে পড়েছিল। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটির গুরুত্ব বিবেচনা করে কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজের মান ও বাস্তবায়নের গতি সন্তোষজনক।"
সাড়ে তিন বছরে প্রকল্পের ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রকল্পের মেয়াদ ও পরিধি সংশোধন করে দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে আরেকটি অংশের কাজ শেষ হবে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে সমগ্র প্রকল্পটি সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ভৌত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। অনুমোদিত দ্বিতীয় সংশোধিত ডিপিপি অনুসারে, প্রকল্পটির কার্যকাল ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান ভৌত উপাদান হিসেবে রয়েছে ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ১০ দশমিক ৮৩৪ কিলোমিটার র্যাম্প, ১৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার অ্যাট-গ্রেড সড়ক, ৪ দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার বাইপাইল ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ এবং মোট ৭ দশমিক ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সেতু। প্রাক্কলিত মোট ব্যয় ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, কাজ সম্পন্ন হলে এটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের আবদুল্লাহপুর, আশুলিয়া, বাইপাইল এবং ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড)-এর সাথে সংযুক্ত হবে। এতে রাজধানী থেকে দ্রুত বাইরে যাওয়া ও ঢাকায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। উত্তরবঙ্গসহ ৩০টি জেলার প্রায় চার কোটির বেশি মানুষ সরাসরি সুবিধা পাবেন। পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ ও দ্রুত হওয়ার পাশাপাশি যানজট কমাতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মিত হলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়া বাজার ও ধউর এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সভাপতি চি উয়ে এবং প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম।