শরীয়তপুর সদর উপজেলার গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকায় স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৭ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাই সোনা কেনার অভিযোগে একজন জুয়েলারি দোকানদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় পালং মডেল থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নড়িয়া উপজেলার বিল দেওয়ানিয়া এলাকার আতাহার মাদবর (৩৬), পালং মডেল থানার গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকার সুমন সরদার (৩০), মো. রুবেল বেপারী (৩০), মো. সাগর খলিফা (২৯), শিপলু খান (৪৫) এবং জুয়েলারি দোকানদার সুমন পাল (৩২)।
পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট বিকেলে মামলার বাদী মিজান শেখ (৩৬) তার অসুস্থ মাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এই সুযোগে ২৩ আগস্ট (রোববার) রাত আনুমানিক ২টার দিকে চোরচক্রের সদস্যরা গয়ঘর খলিফাকান্দি এলাকায় তার ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখান থেকে নগদ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং গলার হার, চেইন, কানের দুল, হাতের বালা ও চুড়িসহ প্রায় ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরি করে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় ২৭ আগস্ট মিজান শেখ বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) শৌলপাড়া এলাকা থেকে চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) ভোরে শৌলপাড়া বাজারের একটি স্বর্ণের দোকান ও এক ব্যক্তির বাসায় অভিযান চালানো হয়। এছাড়া চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে গঙ্গানগর স্বর্ণকার পট্টির ‘মা জুয়েলার্স’ এবং এর মালিক সুমন পালের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৭ ভরি ১৫ আনা সোনা উদ্ধার করা হয় এবং সুমন পালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি বড় চেইন, তিনটি মাঝারি চেইন, সাতটি আংটি, সাত জোড়া কানের দুল, একটি ব্রেসলেট, একটি গলার নেকলেস, একটি লকেট এবং তিনটি গলানো সোনার টুকরো।
ওসি মো. শাহ আলম জানান, "চুরির মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৮ আগস্ট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ২ সেপ্টেম্বর ভোরে অভিযান চালিয়ে ৭ ভরি ১৫ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। চোরচক্রের সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।