মাগুরায় প্রকাশ্যে পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় মারার অভিযোগে সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈমুজ্জামান নয়নকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে ক্ষমা চাওয়া ও মুচলেকা দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে আবারও হেফাজতে নেওয়া হয়।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ভায়না মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত নাঈমুজ্জামান নয়ন জেলা প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি হিসেবেও পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাগুরা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে কর্মরত মো. ইমরান হোসেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যাওয়ার পথে ভায়না মোড়ে পৌঁছান। সামনের একটি মোটরসাইকেলকে হর্ন দেওয়ার পরও সাইড না নিলে তিনি যানটি থামিয়ে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় মাইক্রোস্ট্যান্ডের সভাপতি নাঈমুজ্জামান নয়ন ও তার সহযোগীদের সাথে ইমরানের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনার জের ধরে নয়ন পুলিশ সদস্য ইমরান হোসেনকে মুখে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে।

দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের প্রতি এমন আচরণ নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার ভিডিও মুক্তকণ্ঠের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পর রাতে ৮টার দিকে মাগুরা সদর থানায় পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিলসহ স্থানীয় নেতারা যান। তাদের উপস্থিতিতে পুলিশের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও মুচলেকা দেওয়ার পর নয়নকে প্রাথমিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে তাকে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নাইমুজ্জামান নয়ন বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের সঙ্গে একটু ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল। এ ঘটনায় তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে পরে পুলিশ তাকে আবার হেফাজতে নেয়।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় নাইমুজ্জামান নয়নকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।